বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
শহরের ব্যস্ত রাস্তা থেকে এক্সপ্রেসওয়ে—ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের ওপর নজরদারিতে এবার বড় পরিবর্তন। প্রযুক্তির নতুন সংযোজন হিসেবে যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘এআই ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট সিস্টেম’ (AI Traffic Enforcement System)। সিট বেল্ট বা হেলমেট না পরা, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করা, লালবাতি অমান্য করা কিংবা বেআইনি পার্কিংয়ের মতো অপরাধ এবার মুহূর্তের মধ্যে ধরা পড়বে এআই নজরদারিতে।
যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে তৈরি হওয়া ই-চালান সরাসরি পৌঁছে যাবে গাড়ির মালিকের নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরে।
২০২৫ সালের পরিসংখ্যান: কোন অপরাধে কাটা হয়েছে সর্বাধিক চালান?
ভারতীয় ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট মেশিনারির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ৫ কোটি ১৬ লক্ষ জরিমানা জারি করা হয়েছিল। জরিমানার প্রধান বিভাগগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
| আইন লঙ্ঘনের ধরন | চালানের সংখ্যা | মোট চালানের শতাংশ | গড় জরিমানা (প্রতি চালান) |
| হেলমেট না পরা | ১ কোটি ৪৬ লক্ষ | ২৮.২% | ১,০০০ টাকা পর্যন্ত (সাথে লাইসেন্স স্থগিতের সম্ভাবনা) |
| অতিরিক্ত গতি (Overspeeding) | ৬৭.৯ লক্ষ | ১৩.১% | ১,৭৭৮ টাকা (গড়) |
| বেআইনি পার্কিং/গাড়ি থামানো | ৫৬.৪ লক্ষ | ১০.৯% | ৫৩৬ টাকা (গড়) |
| ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য | ৫৩.৫ লক্ষ | ১০.৪% | ১,০০০ – ৫,০০০ টাকা |
| সিট বেল্ট না পরা | ৩১.৫ লক্ষ | ৬.১% | ১,০০০ টাকা পর্যন্ত |
আরও পড়ুনঃ শুধু মহারাষ্ট্র নয়, দেড়শো বছর পার কাঁকিনাড়ায়; শিল্পাঞ্চলে যৌথ সংস্কৃতির বিকাশ
জরিমানার হার ও আইনি পরিকাঠামো
১৯৮৮ সালের মোটর যান আইন অনুযায়ী সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় এই নতুন এআই ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। অপরাধভেদে সম্ভাব্য জরিমানার অঙ্ক নিচে উল্লেখ করা হলো:
-
অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো: হালকা যানবাহনের ক্ষেত্রে ১,০০০ থেকে ২,০০০ টাকা এবং ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে ২,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
-
অন্যান্য জরিমানা: সিট বেল্ট ও হেলমেটহীন চলাচলে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। ড্রাইভিং লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত বা স্থগিত করার মতো পদক্ষেপও নেওয়া সম্ভব।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এআই ক্যামেরা ব্যবহারের নিয়ম ও জরিমানার নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজ্য ও শহরভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। মূলত পথ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।


