বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
উৎসবের মরসুম ঘনিয়ে আসতেই তিলোত্তমাজুড়ে খাদ্য সুরক্ষায় বাড়তি কড়াকড়ি শুরু করল কলকাতা পুরসভা। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতার একাধিক নামী রেস্তোরাঁ ও খাদ্য প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ অভিযান চালান পুরনিগমের খাদ্য সুরক্ষা (Food Safety) দপ্তরের আধিকারিকরা। সেই অভিযানে ফ্রিজে জমে থাকা বাসি তন্দুরি-কাবাব, মেয়াদউত্তীর্ণ ফিরনি-সস থেকে শুরু করে প্যাকেটের খাবারে অপদ্রব্য মেলার মতো মারাত্মক অনিয়ম ধরা পড়েছে।
কিছুদিন আগেই ভেজাল ও বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগে শহরের ৪০টি দোকানের লাইসেন্স বাতিল করে তালিকা প্রকাশ করেছিল পুরসভা। তারপরও নতুন করে এই ধরনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় শহরের খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দাঁড়িয়ে গেল।
অভিযানে ধরা পড়া অনিয়ম ও রেস্তোরাঁর তালিকা
বিভিন্ন খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানে উদ্ধার হওয়া অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

| রেস্তোরাঁ / দোকান | উদ্ধার হওয়া অনিয়ম ও পুরসভার পদক্ষেপ |
| আমিনিয়া (Aminia) | ফ্রিজে রাখা মেয়াদউত্তীর্ণ ফিরনি ও সস বাজেয়াপ্ত করে তাৎক্ষণিক তা ফেলে দেওয়া হয়। |
| গাঙ্গুরাম (Ganguram) | প্যাকেজড নিমকির প্যাকেটের ভেতর মিলল পাখির পালক। কর্তৃপক্ষ দায় স্বীকার করে নিয়েছে। |
| গোলপার্কের রেস্তোরাঁ | ফ্রিজে জমিয়ে রাখা বাসি কাবাব, মোমো এবং মরা আরশোলা যুক্ত দুধের প্যাকেট ফেলে দেওয়া হয়। |
| জিষান (Zeeshan) | মেয়াদের তারিখ উল্লেখ না থাকা চিংড়ি, মাছ, চাওমিনসহ একাধিক বাসি খাবার নষ্ট করা হয়। |
আরও পড়ুনঃ প্রাণবন্ত মন্ত্রোচ্চারণ, কারাগারের অন্ধকারে জাতীয়তাবাদের আলো! রাজবন্দি সুভাষের দুর্গাপুজো
দায় স্বীকার ও কঠোর বার্তা
গাঙ্গুরামের মতো ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকানে নিমকির প্যাকেটে পালক মেলা প্রসঙ্গে দোকানের এক কর্তা অনিয়ম মেনে নিয়ে জানান, “অসাবধানতাবশত ভুল করে এটি চলে এসেছে, যা কোনোভাবেই হওয়া উচিত হয়নি।”
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পুজোর মুখে আমজনতার স্বাস্থ্য সুরক্ষার সাথে কোনো আপস করা হবে না। শহরজুড়ে এই অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং অনিয়ম মিললেই আইনি পদক্ষেপসহ কঠোর জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


