আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক ডেস্ক:
রাশিয়া ও ইরানের কাছ থেকে অশোধিত তেল আমদানিতে ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর সংক্রান্ত মার্কিন আইন প্রস্তাব ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন শোরগোল শুরু হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে নয়া দিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাশ্রয়ী মূল্যে তেল সরবরাহ সুনিশ্চিত করাই ভারত সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
আমেরিকায় নতুন শুল্ক আইনের জল্পনার মাঝেই ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেছেন যে, ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি ইতিমধ্যেই রাশিয়ার কাছ থেকে আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি বাস্কেট) তেলের আগাম বরাত বা অর্ডার দেওয়া বজায় রেখেছে।
আরও পড়ুনঃ আপনি বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছেন না তো! প্রশ্নের মুখে নেসলের বেবি ফুড
ভারতের রুশ তেল আমদানি ও মার্কিন আইনের রূপরেখা
সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার তেল বাণিজ্যের তথ্য এবং প্রস্তাবিত মার্কিন আইনের মূল দিকগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | বর্তমান পরিসংখ্যান ও আইনি প্রস্তাবনা |
| রুশ তেল আমদানি | আগস্টে ভারত দৈনিক ২১ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করেছে। ২০২৬ সালে ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশই সরবরাহ করেছে রাশিয়া। |
| মার্কিন বিধায়ক প্রস্তাব | সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও সহযোগীদের আনা বিলের মূল লক্ষ্য রাশিয়া ও ইরানের শক্তি খাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ব্যবসা সংকুচিত করা। |
| ভারতের অবস্থান | বিদেশমন্ত্রক এই ধরনের একতরফা শুল্ক চাপানোর চেষ্টাকে অপ্রয়োজনীয় ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বর্ণনা করেছে। |
আরও পড়ুনঃ ‘জোড়া ঘাসফুল’ স্থগিত; তৃণমূলের নাম ও প্রতীক বিরোধে ইন্দিরা গান্ধী, শিবসেনা ও এনসিপি নজির
শুল্ক যুদ্ধের নেপথ্যে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের দোহাই দেওয়া হলেও এই কড়া পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন তেলের বাজার সম্প্রসারণের বাণিজ্যিক কৌশল। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত ও চীনকে নিজেদের তেলের বাজারে টানতে চাইছে ওয়াশিংটন।
বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, অতীতেও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়ার পরও আমেরিকায় ভারতের রফতানি ইতিবাচক ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারের তোয়াক্কা না করে দেশীয় স্বার্থ ও সাশ্রয়ী দামে তেল কেনাই থাকবে ভারতের মূল পররাষ্ট্রনীতি।


