শেখ হাসিনা সরকারের পতন-পরবর্তী বাংলাদেশে যখন পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সমীকরণ ও ‘বন্ধুত্ব’ জোড়া লাগানোর হিড়িক পড়েছে, ঠিক তখনই ঢাকার পিঠে হাত বুলিয়ে বড়সড় ধাক্কা দিল ইসলামাবাদ। রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা ‘রসাটম’ থেকে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আসা ইউরেনিয়াম বোঝাই বিমানকে শেষ মুহূর্তে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করার অনুমতি (Clearance) দিল না পাকিস্তান। ফলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারল না গুরুত্বপূর্ণ এই পারমাণবিক জ্বালানি।
পাকিস্তানের এমন ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ও দ্বিমুখী আচরণে মুখে প্রকাশ্যে চুপ থাকলেও অন্দরে চরম ক্ষুব্ধ ঢাকা ও সেদেশের কূটনৈতিক মহল।
ঘটনার বিবরণ ও ইউরেনিয়াম পরিবহনের নয়া সূচি
গত ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাশিয়া থেকে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিফুয়েলিংয়ের জন্য ইউরেনিয়াম বোঝাই প্রথম বিমানটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের আকস্মিক আপত্তিতে উড্ডয়ন বাতিল করতে হয়।
সোমবার বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিষয়টিকে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন:
-
আকাশসীমার বাধা: পাকিস্তানের ছাড়পত্র বা এয়ারস্পেস পারমিশন না মেলায় বিমানটি নির্দিষ্ট দিনে আসতে পারেনি।
-
রাশিয়ার নয়া সময়সূচি: রুশ সংস্থা ‘রসাটম’ থেকে জানানো হয়েছে, পরিকল্পনা কিছুটা পিছিয়ে এখন ১ অক্টোবর থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নয়া রুট ধরে ইউরেনিয়াম পৌঁছানো হবে।
-
জ্বালানির পরিমাণ: ১ বছর মেয়াদি রিফুয়েলিংয়ের অংশ হিসেবে দুটি বিমানে মোট ৪৮টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি আসার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ দেশ জুড়ে কংগ্রেসের বিক্ষোভ; আগরার জ্ঞানেশের বাড়ির গেটে কালি দিয়ে ‘গদ্দার’ লিখে গেল একদল!
কূটনৈতিক অস্বস্তি ও আন্তর্জাতিক রুট
রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে ইউরেনিয়াম বহনের নির্ধারিত পথটি মূলত কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের আকাশসীমার ওপর দিয়ে বিস্তৃত। সব দেশের আনুসঙ্গিক অনুমোদন থাকলেও একমাত্র পাকিস্তানই শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসে।
| কূটনৈতিক ঘটনাপরম্পরা | দেশের প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া |
| পাক হাই কমিশনারের সাক্ষাৎ | সম্প্রতি বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সাথে পাক হাই কমিশনার ইমরান হায়দারের সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও, বিষয়টি উত্থাপন করা হয়নি বলে জানানো হয়। |
| ঢাকার সুর ঢেকে রাখা | বিদেশ মন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছে “আকাশসীমা নিয়ে চিন্তার কারণ নেই”, তবে ভূ-রাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে—বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েও কাজের বেলায় ঢাকাকে এমন বিপদে ফেলে পাকিস্তান নিজেদের পুরোনো রূপই উন্মোচিত করল। |
ভারত-বিরোধী হাওয়া তুলে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকতে গিয়ে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই ধাক্কা ঢাকার পক্ষে বেশ অস্বস্তিকর বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।


