Friday, 16 October, 2026
16 October
Homeসমস্তDurga Puja: এক মুঠো চাল আর ঘটে গামছা! পশ্চিম বর্ধমানে নুন আনতে...

Durga Puja: এক মুঠো চাল আর ঘটে গামছা! পশ্চিম বর্ধমানে নুন আনতে পান্তা ফুরোনো অভাবের সংসারে ১২ বছরের বালকের অদ্ভুত দুর্গা পুজো

অতীতে যারা এই আয়োজন নিয়ে হাসাহাসি করেছিল, আজ তারাই সেই পুজোয় এসে ভিড় জমায়।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

জাঁকজমকপূর্ণ আলোয় মোড়া পুজো মণ্ডপ, লাখ লাখ টাকার বাজেট আর কর্পোরেট স্পনসরশিপের জমানায় আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু এর ভিড়েই এমন কিছু প্রাচীন কাহিনি ও লোকগাথা লুকিয়ে থাকে, যা সাধারণ মানুষের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক পরম রহস্যের চাদরে মুড়ে ফেলে। ঠিক তেমনই এক অতি সাধারণ পরিবারের অভাবের লড়াই এবং অলৌকিক বিশ্বাসের মেলবন্ধনে ঘেরা দুর্গোৎসবের গল্প আজও মানুষের মনে বিস্ময় জাগায়।

যে গল্পের শুরু এক মুঠো মাটি দিয়ে

ঘটনাটি আমাদেরই চেনা এক নিম্নবিত্ত পরিবারের। সেই বাড়ির ছোট ছেলেটির নেশা ছিল ছোটবেলা থেকেই নিজের হাতে নরম মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা এবং নিজে নিজেই তার আরাধনা করা। সংসারের নিত্যদিনের অনটন দেখে তার মা প্রায়ই বকাঝকা করে বলতেন, *”আমাদের মতো নুন আনতে পান্তা ফুরোনো সংসারে রাজরাজেশ্বরীর পুজো করার সাধ্য বা ক্ষমতা নেই, ওসব ছেলেখেলা করিস না।”* মায়ের বকা খেয়ে ছোট্ট ছেলেটি লুকিয়ে কাঁদত ঠিকই, কিন্তু মাটির প্রতিমা গড়ার নেশা সে কিছুতেই ছাড়েনি।

সেই ১২ বছর বয়স ও অদ্ভুত স্বপ্নাদেশ

ছেলেটির বয়স যখন মাত্র বারো বছর, তখন ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা। কথিত আছে, সেই বয়সেই সে এক অদ্ভুত স্বপ্নাদেশ পায়। স্বপ্নে স্বয়ং দেবী তাকে বলেন, *”তোর কাছেই আমি পুজো নেব, আমি তোর বাড়ি আসতে চাই।”*

অভাবের তাড়নায় জর্জরিত ছোট্ট ছেলেটি তখন স্বপ্নেই দেবীকে তার অসহায়তার কথা জানিয়ে বলেছিল, *”মা, আমি তো পুজোর কোনো মন্ত্র জানি না, আর এত বড় পুজোর খরচ, হরেক রকমের নৈবেদ্য বা বাসনপত্র—এসব আমি কোথায় পাব?”*

বলা হয়, দেবী তাকে অভয় দিয়ে বলেছিলেন, “এক মুঠো চাল আর ঘটে একটা গামছাতেই আমি পুজো নেব। একটা ফল কেটে চারদিন দিবি, তাতেই আমার পুজো হবে। আসনে বসলে পুজোর নিয়ম তুই নিজেই জানতে পারবি, আর পুজোর জোগাড়ও ঠিক হয়ে যাবে।“

হাঁসিঠাট্টা থেকে অলৌকিক প্রাপ্তি

বারো বছরের এক বালকের মুখে এই স্বপ্নের কথা শুনে সেই সময় অনেকেই হাসাহাসি করেছিলেন। ঘরে পুজোর ন্যূনতম কোনো সরঞ্জাম ছিল না। পাড়া-প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে বাসনপত্র চেয়ে এনে ওইটুকু ছেলে সত্যিই পুজো শুরু করে দেয়। প্রতিবেশীরা ভেবেছিল, এই শিশুসুলভ হুজুগ বড়জোর এক-দু’বছর টিকবে, তারপর অর্থাভাবেই সব চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে পুজো এক-দু’বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, তা আজও ওই নিম্নবিত্ত পরিবারে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হয়ে আসছে। আর অতীতে যারা এই আয়োজন নিয়ে হাসাহাসি করেছিল, আজ তারাই সেই পুজোয় এসে ভিড় জমায়।

আরও পড়ুনঃ  মা তারার মাঝেই দুর্গার রূপ! শারদোৎসবে অনন্য আরাধনা বীরভূমের তারাপীঠ মন্দিরে; অষ্টমীতে কুমারী পুজো থেকে বিশ্বশান্তির মহাযজ্ঞ

শূন্য ভাঁড়ার ও রাজকীয় মহাভোগের রহস্য

এই পুজোর সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত ও রহস্যজনক দিক হলো এর জোগাড়। আজও প্রতি বছর পুজোর আগে দেখা যায় পরিবারের ভাঁড়ার সম্পূর্ণ শূন্য, হাতে কোনো টাকা-পয়সা নেই। কিন্তু ঠিক পুজোর মুহূর্ত আসতেই কোথা থেকে যেন আপনাআপনি সমস্ত আয়োজন এবং রসদ জুটে যায়!

সপ্তমী ও নবমী:  সপ্তমীতে ভাত-পোলাওয়ের ভোগ এবং নবমীতে নয় রকমের ভাজা দিয়ে সুস্বাদু খিচুড়ি ভোগ নিবেদন করা হয়।

অষ্টমীর রাজকীয় মহাভোগ:  এই পুজোর মূল আকর্ষণ হলো অষ্টমীর আরাধনা। ওই দিন ১৮ রকমের ফুল, ১৮ রকমের ফল, ১৮ রকমের মিষ্টি এবং ১৮ পদের তরকারি, ভাজা ও পায়েস দিয়ে দেবীর রাজকীয় ভোগ রান্না করা হয়।

একটি অদ্ভুত নিয়ম: এই মহাভোগের একটি প্রাচীন ও কড়া নিয়ম রয়েছে—এই প্রসাদ কেবল সেই পরিবার এবং তাদের গুরুবাড়ি ছাড়া বাইরের কেউ গ্রহণ করতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ  যেখানে পুজো হন রক্তমাংসের মানবী! দেবী চৌধুরানীর স্মৃতিবিজড়িত জলপাইগুড়ির মন্থনী হাটের দুর্গোৎসবের অনন্য রূপ

অমীমাংসিত রহস্য ও ভক্তের নিবেদন

পুজোর চারদিনের মধ্যে এমন কিছু ছোটখাটো অলৌকিক ঘটনা ঘটে, যা এই আয়োজনের নেপথ্যে এক অতিপ্রাকৃত শক্তির উপস্থিতি প্রমাণ করে। বিশেষ করে অষ্টমীর সন্ধিক্ষণে প্রতি বছরই উপস্থিত কারও না কারও ওপর এক অদ্ভুত ভর বা আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায়, যা আজও কোনো বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি। এই অলৌকিক ঘটনায় বিশ্বাসী এক ভক্ত একটি পিতলেরূর্তিও দান করেছেন। সারা বছর সেই পিতলের মূর্তিরই পুজো হলেও, দুর্গাপুজোর ক’টি দিন ওই পরিবারের উত্তরসূরির নিজ হাতে তৈরি সেই মৃন্ময়ী মূর্তিতেই মায়ের পুজো হয়ে থাকে।

লাখ লাখ টাকা খরচ করে জাঁকজমক দেখানো পুজোর অন্ত নেই, কিন্তু শূন্য ভাঁড়ার নিয়েও বারো বছরের এক বালকের সেই এক মুঠো চালের পুজো কীভাবে আজ পর্যন্ত রমরমিয়ে চলছে, তার কোনো হিসেব আজও মেলানো যায়নি।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন