Sunday, 25 October, 2026
25 October
Homeজ্যোতিষ/আধ্যাত্মিকতাLakshmi Puja: জানেন না ৯৯% ভক্তই! কীভাবে চালু হল 'কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো'?

Lakshmi Puja: জানেন না ৯৯% ভক্তই! কীভাবে চালু হল ‘কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো’?

ইতিহাস ও শাস্ত্র ঘেঁটে জানা যায়, বৈদিক যুগে দেবী লক্ষ্মী সরাসরি ধনের দেবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন না।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিবেদন:

শরৎকালের আকাশে শ্বেতশুভ্র মেঘের ভেলার সঙ্গে সঙ্গেই আগমন ঘটে শারদীয়া দুর্গোৎসবের, আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ উঁকি দেয় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর বার্তা নিয়ে। ‘কোজাগরী’ শব্দটির অর্থ ও লোকবিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক ভাবনার সঙ্গে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পূজার নাম এসেছে ‘কে জাগতি?’ বা ‘কে আজ রাতে জেগে আছেন?’—এই প্রশ্ন থেকেই। কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে নেমে এসে খোঁজ নেন কে ভক্তিভরে রাত জেগে তাঁর আরাধনা করছেন। আর যিনি এই রাতে জেগে থাকেন, দেবী তাঁর ঘরেই ধন-সম্পদ, শান্তি ও সমৃদ্ধির আশীর্বাদ বর্ষণ করেন।

আরও পড়ুনঃ  মৃত্যুশোক নিয়েই মহল্লা বলছে, ‘আবার এসো মা’; না ঢাক, না উচ্ছ্বাস, চোরবাগানের ‘মা’ চললেন একাই

পূজা পদ্ধতি ও প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠান

বাঙালি হিন্দুর ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয়। এই পূজায় প্রধানত কাঠের জলচৌকিতে দেবীর সরা স্থাপন করা হয়। কলাপাতার ওপর ধান, মুদ্রা, হলুদ, পাকা হরিতকি, কড়ি, পানের পাতা ও সোনা দিয়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দেবীর আসন সাজানো হয়।

এই পূজার একটি অন্যতম বিশেষ অঙ্গ হলো—১৪টি পাত্রে বিভিন্ন উপাচার সাজিয়ে রাখা, যা মূলত ‘পূর্ণতা’-র প্রতীক। এর পাশাপাশি দেবীর ঘটস্থাপনের আগে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল দানের প্রাচীন রীতি পালিত হয়। পবিত্র ঘটে জল, ধান ও পদ্মফুল স্থাপন করে মা লক্ষ্মীকে আহ্বান জানানো হয়।

বৈদিক যুগ থেকে পুরাণে দেবী লক্ষ্মীর রূপান্তর

ইতিহাস ও শাস্ত্র ঘেঁটে জানা যায়, বৈদিক যুগে দেবী লক্ষ্মী সরাসরি ধনের দেবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন না। প্রাচীনকালে সরস্বতী নদী এবং উর্বরতা ও শস্যের দেবী হিসেবেই মূলত তাঁর আদি রূপের পরিচয় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আর্য সমাজ কৃষিকাজে আরও পারদর্শী হয়ে ওঠার পর উর্বরতা ও শস্যদায়িনী দেবী হিসেবে লক্ষ্মীকে পূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

পৌরাণিক কাহিনীর বর্ণনায় রয়েছে, একবার ঋষি দুর্্বাসার অভিশাপে দেবী লক্ষ্মী ইন্দ্রপুরী ত্যাগ করলে সমগ্র পৃথিবী শ্রীহীন ও শ্রীভ্রষ্ট হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীকালে সমুদ্র মন্থনের ফলে ক্ষীরসাগর থেকে দেবী পুনরায় ‘শ্রী’ রূপে আবির্ভূতা হন এবং ভগবান বিষ্ণু তাঁকে পত্নীরূপে গ্রহণ করেন। কালক্রমে এই ‘শ্রী’ রূপটিই মহালক্ষ্মীর রূপের সঙ্গে সম্পূর্ণ একাকার হয়ে যায়।

শ্রীসূক্তের মন্ত্র ও নারদীয় পুরাণের বিধান

ঋগ্বেদের অন্তর্গত বিখ্যাত শ্রীসূক্তে দেবী লক্ষ্মীর রূপ বর্ণনা করে বলা হয়েছে—

“হিরণ্যবর্ণাং হরিণীং সুবর্ণরজতস্রজাম্, চন্দ্রাং হিরণ্ময়ীং লক্ষ্মীং জাতবেদো ম আবহ।।”

এই বৈদিক মন্ত্রের মাধ্যমেই মূলত সুবর্ণবর্ণা, পদ্মাসনা, চঞ্চলা অথচ পরম কল্যাণদাত্রী দেবী লক্ষ্মীকে আহ্বান করা হয়। প্রাচীন নারদীয় পুরাণে উল্লেখ রয়েছে যে, আশ্বিন মাসের এই পূর্ণিমা তিথিতে উপবাস রেখে, সন্ধ্যায় চন্দ্রোদয়ের সময় তামা বা মাটির ঘটে দেবীকে স্থাপন করে পুজো করতে হয়। সেই প্রাচীন আচারে এক লক্ষ বা তার সমপরিমাণ ঘিয়ে ঢালা প্রদীপ জ্বালানোর বিশেষ বিধানের কথা বলা হয়েছে। এরপর ব্রাহ্মণ ভোজন, ভক্তিগীতি ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাত জাগার রীতি রয়েছে। পরের দিন সকালে স্নান সেরে এই ব্রতের সমাপ্তি ঘটে।

আরও পড়ুনঃ  এবার পবিত্র মক্কা-মদিনাও বাদ পড়ল না! হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র পড়ল মক্কায়

বাঙালি মানসে ‘গৃহলক্ষ্মী’ ও লোকায়ত ভাবনা

অন্যান্য প্রদেশের সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতির লক্ষ্মীপুজোর একটি সূক্ষ্ম তফাত রয়েছে। বাঙালি ঘরে লক্ষ্মী দেবীকে কেবল ঐশ্বর্য বা কেবল নিছক ধনের দেবী হিসেবে দেখা হয় না, বরং তাঁকে ঘরেরই এক অবিচ্ছেদ্য সদস্য বা ‘মেয়ের মতো’ পুজো করা হয়। শান্ত, স্নিগ্ধ, দ্বিভুজা রূপে তিনি আমাদের কাছে চিরকালের ‘গৃহলক্ষ্মী’। প্রতি বৃহস্পতিবার বাঙালি নারীসমাজ অত্যন্ত ভক্তিভরে তাঁকে ধান, দুধ, কলা এবং মিষ্টি নিবেদন করে অন্নপূর্ণা ও শ্রীময়ী রূপে কামনা করেন।

এই উপাসনায় দেবীকে এই মন্ত্রে ধ্যান করা হয়—

“পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ-সৃণিভির্যাম্যসৌম্যয়োঃ, পদ্মাসনাস্থাং ধ্যায়েচ্চ শ্রিয়ং ত্রৈলোক্যমাতরম্।।”

সব মিলিয়ে, লক্ষ্মী কেবল বৈষয়িক ধনসম্পদের প্রতীক নন; তিনি ঐশ্বর্য, সৌন্দর্য, প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও শান্তির চিরন্তন আধার। কোজাগরী পূর্ণিমার স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না যেমন প্রকৃতিকে ও মনকে শুদ্ধ ও শান্ত করে তোলে, তেমনই দেবী লক্ষ্মীর উপাসনা মানবজীবনে বয়ে আনে অফুরন্ত আলো, শান্তি ও মঙ্গলের বার্তা।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন