Thursday, 29 October, 2026
29 October
HomeকলকাতাAbhishek Banerjee: 'আবার ভোট হোক ৬ মাসে', সুপ্রিম কোর্টের কাছে আর্জি অভিষেকের

Abhishek Banerjee: ‘আবার ভোট হোক ৬ মাসে’, সুপ্রিম কোর্টের কাছে আর্জি অভিষেকের

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের এই মন্তব্য সামনে আসতেই এক্স (X) হ্যান্ডলে দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া জানান তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ রাজ্য ও জাতীয় আইনি-রাজনৈতিক প্রতিবেদন:

পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক ও নির্বাচনী বৈধতা নিয়ে ফের বড়সড় আক্রমণের ধার বাড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শীর্ষ আদালতে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন বিচারপতিদের একটি তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণকে হাতিয়ার করে অভিষেকের স্পষ্ট দাবি—সুপ্রিম কোর্টের উচিত বাংলায় পূর্ববর্তী নির্বাচিত (তৃণমূল কংগ্রেস) সরকারকে পুনরায় বহাল করা এবং আগামী ছ’মাসের মধ্যে রাজ্যে নতুন করে নিরপেক্ষ বিধানসভা নির্বাচন করানোর নির্দেশ দেওয়া।

আরও পড়ুনঃ ‘নিয়মিত কথা হচ্ছে..’; ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের নজর বামেদের দিকে, বিস্ফোরক শতরূপ

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ: ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে চূড়ান্ত রায় বাকি’

দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় নোটিস পাঠানোর অস্বচ্ছতা সংক্রান্ত একটি আবেদনের শুনানি চলছিল শীর্ষ আদালতে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী ডিএস নাইডু সওয়াল করে দাবি করেন যে, আদালত ইতিপূর্বে এই প্রক্রিয়ার বৈধতা বহাল রেখেছে।

এর প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট করে দেন:

“বিহারে নির্বাচন কমিশন ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (Logical Discrepancy)-কে আলাদা বিভাগ হিসেবে গ্রহণ করেনি। পশ্চিমবঙ্গে আমরা কেবল একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা (Interim Arrangement) হিসেবে এই প্রক্রিয়া চালানোর অনুমতি দিয়েছিলাম। এই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা নিয়ে আদালত এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বিচার জানায়নি।”

‘কী সুবিধাজনক গণতন্ত্র!’: সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিলেন অভিষেক

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চের এই মন্তব্য সামনে আসতেই এক্স (X) হ্যান্ডলে দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া জানান তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতের পর্যবেক্ষণকে তুলে ধরে তিনি রাজ্য সরকারের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে সোচ্চার হন।

অভিষেক সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন:

  • জনাদেশ ও গণতান্ত্রিক বৈধতা: “কী সুবিধাজনক গণতন্ত্র! কারচুপি করা জনাদেশের ভিত্তিতে যদি একটি পূর্ণাঙ্গ সরকার গঠিত হতে পারে, তবে গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনী বৈধতার আর কী অর্থ অবশিষ্ট থাকে? আদালতের যুক্তি মেনে চললে, বর্তমান বিজেপি সরকারকে কেবল একটি অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।”

  • পুনর্নির্বাচন ও বাদ পড়া ভোটারদের ফেরানোর দাবি: “সুপ্রিম কোর্টের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করা উচিত। রাজ্যে আগের নির্বাচিত সরকারকে স্বপদে পুনর্বহাল করে আগামী ৬ মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন করার স্পষ্ট নির্দেশ দিক আদালত। একই সঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অন্যায্যভাবে বাদ পড়া প্রতিটি যোগ্য ভোটারকে তালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।”

আরও পড়ুনঃ  ‘জ্ঞানু মাস্ট গো!’ ১ নভেম্বর ‘ইন্ডিয়া’র কর্মসূচিকে সমর্থন সিজেপির

এসআইআর বিতর্কে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

ভোটার তালিকায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যের অমিল খোঁজার অজুহাতে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে বেশ কিছু দিন ধরেই তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। একদিকে ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট ও সিজেপি-র যৌথ প্রতিবাদের তোড়জোড় চলছে, অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই জটিল রূপ নিচ্ছে।

আদালতের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগেই যেভাবে বিজেপি সরকারের স্থায়িত্ব ও বৈধতা নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হলেন, তাতে কালীপূজা ও উৎসবের আবহের মধ্যেও বঙ্গ রাজনীতির পারদ নতুন করে চড়তে শুরু করেছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন