বিশেষ আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লরিডায় এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় পাইলটসহ মোট ন’জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একটি ছোট আকারের বাণিজ্যিক জেট ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাওয়ার সময় মাঝ-আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়। ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে বিমানটি যেভাবে খাড়াভাবে নীচের দিকে নেমে এসে লোকালয়ের রাস্তার ওপর আছড়ে পড়ে, তার রোমহর্ষক বিবরণ ও ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। অল্পের জন্য কোনো জনবহুল বসতবাড়ি বা চলন্ত গাড়ির ওপর বিমানটি না পড়ায় আরও বড় ধরনের প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা মিলেছে।
আরও পড়ুনঃ চারপাশে রণক্ষেত্র, ঢাকার মিরপুর-১০-এর সংঘর্ষের মাঝে এক বাঙালি মায়ের অদম্য সংগ্রামের ছবি
১. দুর্ঘটনার বিবরণ ও মুহূর্তের মধ্যে আগুনের গোলা
আমেরিকার পরিবহণ সচিব সিন ডাফি (Sean Duffy) এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
-
সময় ও স্থান: স্থানীয় সময় রবিবার বেলা ১২টা ৫০ মিনিট নাগাদ দক্ষিণ ফ্লরিডার পাম বিচ কাউন্টির ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় লিয়ারজেট ৬০ (Learjet 60) বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
-
যাত্রী সংখ্যা: বিমানটিতে পাইলটসহ মোট ন’জন সওয়ার ছিলেন, যাদের কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
-
বিস্ফোরণ ও গর্ত: বিমানটি রাস্তার ধারে প্রচণ্ড গতিতে মুখ থুবড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সেটি আগুনের গোলায় পরিণত হয়। রাস্তার মাঝখানে তৈরি হয় বিরাট গর্ত।
২. ক্ষেপণাস্ত্রের মতো খাড়া পতন: প্রত্যক্ষদর্শীদের ক্যামেরায় বন্দি দৃশ্য
টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়ে বিমানটি বাহামাসের উদ্দেশে যাচ্ছিল। মাঝপথেই ঘটে এই বিপর্যয়।
-
ক্ষেপণাস্ত্রের ভ্রম: বিমানটি পড়ার দৃশ্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন যাত্রীর ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, আকাশ থেকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের মতো তিরের বেগে সোজা নিচের দিকে নেমে আসছে বিমানটি।
-
নাক নিচুতলার দিকে: বিমানের নাকটি রাস্তার দিকে এবং লেজ আকাশের দিকে লম্বালম্বিভাবে সজোরে আছড়ে পড়ে।
-
বড় দুর্ঘটনা এড়ানোর স্বস্তি: প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত স্থানটি থেকে মাত্র কয়েক হাত দূরেই বেশ কিছু বসতবাড়ি ছিল এবং রাস্তা দিয়ে নিয়মিত গাড়ি চলাচল করছিল। বিমানটি একটু এদিক-ওদিক হলে কোনো বাড়ি বা চলন্ত গাড়ির ওপর পড়লে মৃতের সংখ্যা আরও বহু গুণ বেড়ে যেতে পারত।
আরও পড়ুনঃ আজব পেশা; বোতলে বাতকর্ম ভরে বিক্রি! ১০০০ ডলারে বোতল বিক্রি করে সপ্তাহে লাখ লাখ টাকা রোজগার
৩. বরফ জমা থেকে শেষ মুহূর্তের ‘মে ডে’ কল
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কেন পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারালেন, তা এখনও সম্পূর্ণ স্পষ্ট না হলেও জানা গিয়েছে—
-
উচ্চতা পরিবর্তনের অনুমতি: ৩৫ হাজার ফুট উপরে উড়ার সময় প্রথম বিমানের মধ্যে ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। পাইলট জানান, অতিরিক্ত বরফ জমে যাওয়ায় বিমান চালাতে সমস্যা হচ্ছে এবং তিনি বিমানটিকে আরও দু’হাজার ফুট উপরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চান।
-
দ্রুত গতিতে পতন: এরপরই বিমানটি অস্বাভাবিকভাবে নিচে নামতে শুরু করে। প্রথমে প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট, তারপর ২০ হাজার এবং শেষ পর্যন্ত প্রতি মিনিটে ৩০ হাজার ফুট গতিতে উচ্চতা হারাতে থাকে বিমানটি।
-
পাইলটের শেষ বার্তা: এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে (ATC) শেষ মুহূর্তে পাইলট মরিয়া হয়ে বিপদবার্তা বা ‘মে ডে’ (Mayday) কল পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমরা নামছি। মে ডে, মে ডে! আমরা ১০ হাজার ফুট প্রতি মিনিট গতিতে নীচের দিকে নামছি। একেবারে রাস্তায় গিয়ে আছাড় খেতে চলেছে আমাদের বিমান।’’ এরপরেই সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ অনুসন্ধানের জন্য মার্কিন ফেডেরাল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনস্ট্রেশন (FAA) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।


