Sunday, 28 June, 2026
28 June
Homeদক্ষিণবঙ্গChandannagar: অবশেষে বিশ্বমঞ্চে চন্দননগরের জলভরা! পেয়ে গেল অফিশিয়াল 'জিআই ট্যাগ'

Chandannagar: অবশেষে বিশ্বমঞ্চে চন্দননগরের জলভরা! পেয়ে গেল অফিশিয়াল ‘জিআই ট্যাগ’

জামাইবাবু যেই না সেই সন্দেশে কামড় দিলেন, অমনি ভেতর থেকে রস ছিটকে পড়ে ওনার সাধের পাঞ্জাবি ভিজিয়ে দিল! চারদিকে হাসির রোল উঠল আর জামাই তো অবাক!

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

চন্দননগরের মানুষের জন্য এর চেয়ে বড় আনন্দের খবর আর কিছু হতে পারে না! জগদ্ধাত্রী পুজোর আলোকসজ্জা আর ফরাসি ইতিহাসের পর, এবার চন্দননগরের ২০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্য ‘জলভরা সন্দেশ’ ভারত সরকার কর্তৃক অফিশিয়ালি জিআই (Geographical Indication) স্বীকৃতি পেয়ে গেল!

আরও পড়ুনঃ জয়-জয়কার বাংলার মিষ্টির; GI ট্যাগ পেল জনাইয়ের মনোহরা

এই ‘জিআই স্বীকৃতি’ বা GI Tag আসলে কী জিনিস?

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে এই ট্যাগটা পাওয়ার আসল মানে কী? সহজ ভাষায় বলতে গেলে, জিআই ট্যাগ হলো একটা স্পেশাল আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেট বা আইনি গ্যারান্টি। কোনো একটা নির্দিষ্ট এলাকার কোনো বিশেষ খাবার বা জিনিসের স্বাদ আর ঐতিহ্য যদি অনন্য হয়, তখন তাকে এই সম্মান দেওয়া হয়।

যেমন দার্জিলিংয়ের চা বা বর্ধমানের সীতাভোগ-মিহিদানা জিআই ট্যাগ পেয়েছে, ঠিক তেমনই ভারত সরকার এবার অফিশিয়ালি সিলমোহর দিয়ে মেনে নিল যে—আসল এবং খাঁটি ‘জলভরা সন্দেশ’ শুধুমাত্র আমাদের চন্দননগরেরই সৃষ্টি! এখন থেকে চন্দননগরের বাইরে অন্য কেউ আর জেনেশুনে নকল মিষ্টি তৈরি করে তাকে “চন্দননগরের আসল জলভরা” বলে বিক্রি করতে পারবে না। করলে সেটা আইনি অপরাধ হবে।

চন্দননগরের বুকে এটা কত বড় গর্বের ব্যাপার?

​এটা শুধু একটা মিষ্টির স্বীকৃতি নয়, এটা আমাদের চন্দননগরের সংস্কৃতির জয়! এখন থেকে পৃথিবীর যেখানেই জলভরা সন্দেশের নাম উঠবে, সেখানেই জড়িয়ে থাকবে আমাদের এই প্রিয় শহরের নাম। চন্দননগরের সন্তান হিসেবে বুক ফুলিয়ে গর্ব করার মতো এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত এটি!

আরও পড়ুনঃ বঙ্গবার্তার পূর্বাভাস মিলতে শুরু করেছে! উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে দুর্যোগ

জামাই ঠকানো থেকে জিআই ট্যাগ: ফিরে দেখা ‘জলভরা’র সেই মিষ্টি ইতিহাস…

​এই বিশ্বজয়ী মিষ্টির জন্মের পেছনে রয়েছে এক দারুণ মজাদার গল্প। সময়টা ১৮১৮ সাল। চন্দননগরের বিখ্যাত মিষ্টি ব্যবসায়ী সূর্য কুমার মোদকের কাছে এক জমিদার বাড়ির গিন্নি এসে এক অদ্ভুত বায়না ধরলেন। জামাইষষ্ঠীতে নতুন জামাই আসবে, তাকে এমন এক মিষ্টি খাওয়াতে হবে যা দেখে জামাই বাবাজীবন একদম চমকে যান!

যেমন ভাবা, তেমনি কাজ! সূর্য মোদক মশাই কড়া পাকের তালশাঁস সন্দেশের ভেতরে সুকৌশলে পুরে দিলেন খাঁটি গোলাপ জল। জামাইবাবু যেই না সেই সন্দেশে কামড় দিলেন, অমনি ভেতর থেকে রস ছিটকে পড়ে ওনার সাধের পাঞ্জাবি ভিজিয়ে দিল! চারদিকে হাসির রোল উঠল আর জামাই তো অবাক! সেই ‘জামাই ঠকানো’ মিষ্টিই আজকের চন্দননগরের বিশ্বখ্যাত ‘জলভরা সন্দেশ’। (যা শীতকালে নলেন গুড়ের রসে আরও জমে ওঠে!)

​আজ দীর্ঘ ২০০ বছর পর সেই ঐতিহ্য আজ এক বিরাট সরকারি সম্মান পেল। সূর্য কুমার মোদকের সেই সৃষ্টি আজ বিশ্বজয় করল।

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন