ফলতায় তৃণমূলের দাগি নেতা জাহাঙ্গির খান ওরফে স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’-র গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে সোমবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। তাঁর মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন পরিবারের সদস্য, সমর্থক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের টিনের পার্টি অফিসে এসি-সোফা, উদ্ধার কন্ডোমের প্যাকেট!
তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করলে ঘটনাস্থলে মোতায়েন কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী বিক্ষোভকারীদের সরানোর উদ্যোগ নেয়। এরপরই তৈরি হয় চরম উত্তেজনা, আতঙ্ক এবং হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে গিয়ে পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। সেই ঘটনার ভিডিও ও ছবি ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি তোলাবাজি, নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা এবং একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।
গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই ফলতায় তাঁর অনুগামীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সোমবার সকালে জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী রেজিনা বিবির নেতৃত্বে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এবং সমর্থকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের দাবি ছিল, জাহাঙ্গির খানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে এবং অবিলম্বে তাঁকে মুক্তি দিতে হবে।
বিক্ষোভের জেরে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। যান চলাচল ব্যাহত হতে শুরু করে এবং পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমে বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তাতে কোনও কাজ হয়নি বলে জানা যায়। এরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী।
আরও পড়ুনঃ ‘বাড়িতে সময় কাটছে না…’, মমতা হাইকোর্টে আসতেই খোঁচা
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য এগিয়ে যেতেই হঠাৎ করেই এলাকায় চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই ভয়ে ছুটতে শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, বাহিনীর তাড়া এবং লাঠিচার্জের আশঙ্কায় তাঁরা এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় হুড়োহুড়ির মধ্যে কয়েকজন সরাসরি রাস্তার ধারে থাকা একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। কেউ সাঁতরে, কেউ আবার কাদামাটি মাড়িয়ে পুকুরের অপর প্রান্তে পৌঁছে যান। এরপর দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়েন তাঁরা।
ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিক্ষোভ কার্যত ভেঙে যায়। রাস্তা থেকে সরে যান অধিকাংশ সমর্থক এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয় যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। যদিও বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে জোর করে দমন করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, সাধারণ মানুষের চলাচল এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধী দলগুলি একদিকে যেমন জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে সামনে আনছে, তেমনই তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ দাবি করছে যে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য সামনে আসবে। তবে গ্রেফতারির পর তাঁর মুক্তির দাবিতে এমন নাটকীয় বিক্ষোভ এবং পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর ঘটনা ফলতার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


