চন্দন দাস, কলকাতাঃ
হৈ হৈ যুদ্ধের রৈ রৈ কাণ্ডের মধ্যে অনেক আঙ্গিক রয়েছে। যুদ্ধকে কেবলই আজ ব্যালেস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল, হাইপারসনিক মিসাইল, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, উচ্চ প্রযুক্তির সাবমেরিন এর মাধ্যমে হয়? নাকি যুদ্ধ ব্যবস্থার অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি সূক্ষ্ম দিক রয়েছে??
আরও পড়ুনঃ ভারত মহাসাগরের বুকে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ডোবাল আমেরিকা
হিসেব করে দেখতে গেলে, আজ ভারতবর্ষ ডিফেন্স সিস্টেমের দিক থেকে বেশ কয়েক ধাপ উন্নতির স্তর পেরোলেও, ক্ষেপণাস্ত্রর দিক দিয়ে চিন ও আমেরিকার পিছনে। তবে কিছু অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ভান্ডার ভারতের হাতেও রয়েছে, যাতে ভারতবর্ষের অন্তত ক্ষতি ও ক্ষত দুই পর্যায়ের থেকেই রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
ছোটবেলা অপটিক্যাল ফাইবার নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে বুঝেছি এর গুরুত্ব অপরিসীম। হাতে মোবাইল ধরে, যে লেখাটি এখন পড়ছেন, অপটিক্যাল ফাইবার না থাকলে, এ সুযোগ থেকে আপনিও বঞ্চিত হতেন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আজ হঠাৎ করে ইন্টারনেট কোন কারণে বন্ধ হয়ে গেলে, শুধুমাত্র WhatsApp, Facebook, YouTube, X নয়; পরিবহন ও লজিস্টিকস, জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা, আইটি কোম্পানি, আউটসোর্সিং, কল সেন্টার সম্পূর্ণ থমকে যাবে। সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে ব্যাংকিং ও আর্থিক ব্যবস্থা, GPS system। রাডার, স্যাটেলাইট, বিদ্যুৎ গ্রিড সমস্ত ব্যবস্থাপনা নিমেষের মধ্যে ভেঙে পড়বে।
সমুদ্রের তলা দিয়ে যাওয়া ওই কাচ বা প্লাস্টিকের অত্যন্ত সূক্ষ্ম তার, যার ভেতর দিয়ে আলোর পালস (Light pulses) চলাচল করে, অর্থাৎ অপটিক্যাল ফাইবার সমস্ত বিশ্বের ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক বলা যেতে পারে।
এখানেই আসে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কথা। আজ যদি gulf region এ যুদ্ধের ফলস্বরূপ, কোন কারনে ইরান, রেড সি এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসা অপটিক্যাল ফাইবার গুলোকে নষ্ট করে দেয়, তবে বহু দেশের ইন্টারনেট সিস্টেম ভেঙে পড়বে। কিন্তু এক্ষেত্রে ভারতের ইন্টারনেট সিস্টেম থাকবে অটুট। কারণ ভারত বহু পূর্বেই তার ইন্টারনেটের পরিধি বাড়িয়ে রেখেছে। তাই gulf region এ সমস্যা হলে, অন্য অপটিক্যাল ফাইবারের অন্য পথ আমাদের জন্য সুপ্রশস্ত্র থাকবে।

রুটগুলো নিম্নরূপ:
প্রধান আন্তর্জাতিক রুটসমূহ
১. TGN-Pacific – জাপান থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশ দিয়ে সংযোগ স্থাপন করেছে।
২. TGN-Atlantic – যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে যোগাযোগ রক্ষা করে।
৩. TGN-Eurasia – ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত।
৪. India–Singapore Cable (TIISCS) – ভারতের চেন্নাই থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ।
৫. TGN-IA2 – সিঙ্গাপুর, হংকং ও জাপানকে যুক্ত করেছে।

আরও পড়ুনঃ সংকট মোকাবিলায় সাহায্য; ভারতে তেল পাঠাবে রাশিয়া
আর অদৃশ্য বিশাল অবকাঠামো, যার নাম অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে ভারত। এই শক্তিশালী অস্ত্র ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার কারিগর হলেন নমস্য উদ্যোগপতি রতন টাটা। তাঁর সময়েই আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্ক, টাটা গ্লোবাল নেটওয়ার্ক (TGN) গড়ে তোলা ও সম্প্রসারণ করা হয়।
সুতরাং আজ যদি দিওয়ারের ডায়ালগ কপি করে কেউ জিজ্ঞাসা করে, মেরে পাস ব্যালেস্টিক মিসাইল, এডভান্সড সাবমেরিন, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, সুপারসনিক মিসাইল হ্যায়, তুমহারে পাস ক্যয়া হ্যায়??
উত্তর হবে – হামারে পাস ওয়ার্ল্ডওয়াইড অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক হ্যায়।









