নজিরবিহীন সঙ্কট আলু চাষিরা। চন্দ্রকোণা, গলসির পর গোঘাট। রাজ্যে একের পর এক আলু চাষির অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর আসছে। পরিবারের দাবি, সঠিক দাম না পেয়ে ঋণের দায়ে আত্মঘাতী হচ্ছেন আলু চাষিরা। কিন্তু কেন এই সঙ্কট? ঠিক কোন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আলু চাষিদের সঙ্গে কথা বলে যা জানা যাচ্ছে, তা সত্যিই হতাশাজনক। তিন মাস ধরে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করার পর সরকার চাষিদের লাভ দিচ্ছে ২০০০ টাকা। এমনকি কেজি প্রতি আলু কেবল চাষির লাভ হচ্ছে ১ টাকা! কিন্তু বাজারে তো আলু বিকোচ্ছে কেজি প্রতি ১২ টাকা। তাহলে বাকি ১১ টাকা যাচ্ছে কোথায়?
আরও পড়ুনঃ ‘বাঁশ’! প্রার্থী শুভেন্দু মধ্যরাতে আলিপুরে, ফোন CP-কে
৫০ কেজি আলু ফলনে খরচ ৩৭৫ টাকা। মাঠ থেকে আলু বাছাই, প্যাকেট করে হিম ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে খরচ ৭৫ টাকা।
এক বস্তা আলু উৎপাদন এবং হিমঘর পযন্ত পৌঁছে দিতে চাষির খরচ পড়ছে ৪৫০ টাকাআর সরকারি সহায়ক মূল্য ৪৭৫ টাকা। বস্তা প্রতি চাষিদের লাভ ২৫ টাকা। বিঘা প্রতি লাভ হতে পারে ২০০০ টাকা।
তিন মাস ধরে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করার পর সরকার চাষিদের লাভ দিচ্ছে ২০০০ টাকা। তাতেই বাড়ছে জটিলতা।
এবছর উৎপাদন হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টন আলু। যেখানে চাষির চাহিদা থাকে ৬০ লক্ষ টন। রাজ্যের সব হিমঘরগুলি মিলিয়ে ৮২ লক্ষ মেট্রিক টন আলু রাখার ক্ষমতা রয়েছে। সরকার কিনবে ১২ লক্ষ মেট্রিক টন আলু। তাহলে প্রশ্ন, বিপুল পরিমাণ আলু যাবে কোথায়?
কলকাতার বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকা প্রতি কেজি।
কৃষকের আয় হচ্ছে ১ টাকা প্রতি কেজি।
আরও পড়ুনঃ মীনাক্ষী-কলতান ভুলে আরজি করের নির্যাতিতার মা-ই পানিহাটিতে
তাহলে প্রশ্ন ১১ টাকা খাচ্ছে কে?
সরকার সব জায়গায় এখনও আলু কেনা শুরু করেনি, সরকারের তরফ থেকে এখনও কোনও চেষ্টাও শুরু হয়নি বলে অভিযোগ করছে চাষিরা। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে। অনেক আলু চাষিদের ক্ষতি হয়েছে। চিন্তা করবেন না। কৃষি বিমা করা হয়েছে। শস্যবিমা। সবাই ক্ষতিপূরণ পাবেন। টাকা চাষিদের দিতে হয় না, টাকা দেয় রাজ্য সরকার।”



