পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহে এবার এক অন্যরকম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই শুরু হয়েছে ফলাফল নিয়ে জল্পনা, বিশ্লেষণ এবং রাজনৈতিক তরজার নতুন অধ্যায়। এই প্রেক্ষাপটে যাদবপুর কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। তাঁর দাবি, এবারের নির্বাচনে “বিস্ময়কর” ফলাফল দেখতে চলেছে বাংলা, এবং সেই ফলাফলে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বামেরা।
আরও পড়ুনঃ ‘পুলিশের শরীরী ভাষা বদলেছে, তারা করে দেখানোর সুযোগ চাইছে
ভোটের পরে বেশ আত্মবিশ্বাসী এবং ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গিয়েছে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে । সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এবারের ভোটের ফল অনেককেই চমকে দিতে পারে। তাঁর কথায়, “ব্যাপক ভোটাভুটি যা হয়েছে, বিস্ময়কর ফলাফল হলে আমি একেবারেই বিস্মিত হব না।” এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ভোটের ময়দানে বাম শিবির নিজেদের অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী।
এবারের নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল নজিরবিহীন। প্রাথমিক হিসেবে জানা যাচ্ছে, প্রায় ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে, যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। এই বিপুল ভোটদানের হার নিয়েও নিজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিকাশরঞ্জন। তাঁর মতে, এই উচ্চ ভোটের হার শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং প্রতিবাদের বার্তা।
আরও পড়ুনঃ অপেক্ষার অবসান, সিআইএসসিই দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফল প্রকাশ
তিনি বলেন, “এই ভোটের হার আসলে কিছুই নয়, এতদিন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে না পারার বিরুদ্ধে একটা জেহাদ।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি মনে করছেন ভোটাররা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরে এক ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, এই ভোট ছিল “চূড়ান্ত দুর্নীতি ও ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে জেহাদ।” অর্থাৎ, তাঁর মতে, ভোটাররা শুধুমাত্র প্রার্থী বেছে নেননি, বরং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানের বিরুদ্ধেও নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, এক্সিট পোল নিয়ে তাঁর অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সংস্থার এক্সিট পোল প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দলকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তবে এই সমস্ত পূর্বাভাসকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে নারাজ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, এক্সিট পোল বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন নয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। তিনি বিশ্বাস করেন, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার দিনই প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে, যা অনেকের প্রত্যাশার সঙ্গে মিলবে না।


