সল্টলেকের অয়ন শীলের অফিসে তদন্ত করতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। সেখানে ডাস্টবিনে পাওয়া চিরকুটের মধ্যে থেকেই প্রথম যোগসূত্র পাওয়া যায় পুর নিয়োগ দুর্নীতির।
আরও পড়ুনঃ নিয়োগ দুর্নীতির জালে ‘বিধাননগরের চালক’; অস্বস্তি তৃণমূল শিবিরে
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলা যখন তদন্ত চলছিল। তখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অয়ন শীলের অফিসে তদন্তের স্বার্থে গিয়েছিলেন। সেখানেই ডাস্টবিনের মধ্যে চিরকুট পাওয়া যায়। প্রায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সল্টলেকের অয়ন শীলের অফিসে তদন্ত করতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। সেখানে ডাস্টবিনে পাওয়া চিরকুটের মধ্যে থেকেই প্রথম যোগসূত্র পাওয়া যায় পুর নিয়োগ দুর্নীতির। পুর নিয়োগ কীভাবে হয়েছে, একটা রেডচার্ট পর্যন্ত ইডি সূত্রে সামনে নিয়ে আসা হয়েছিল। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে পুর নিয়োগ দুর্নীতির যোগসূত্র, অন্তত ১৭টি পুরসভার দুর্নীতি হয়েছে বলেই ইডির তরফে দাবি করা হয়েছিল। এরপর তদন্ত চলে ও কিছুক্ষণ আগে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়েছে তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। মোট ৩২৯ জনের চাকরি বিক্রি করা হয়েছে, এমন অভিযোগ উঠেছিল। এরমধ্য়ে ১৫০ জনের চাকরি না কি সরাসরি সুজিত বসুর মাধ্যমে হয়েছিল, এমনই অভিযোগ করেছে ইডি।
সূত্রের খবর, ‘নিয়োগ দুর্নীতিতে উদ্ধার হওয়া নথি, ডিজিটাল এভিডেন্স’ তথ্য-প্রমাণের সঙ্গে অয়ন শীল, নিতাই দত্তের বয়ান একাধিক তথ্যকে সামনে রেখে সুজিত বসুকে জেরা করা হয়। সোমবার প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জেরা করে টানা ইডি। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে প্রাক্তন দমকল মন্ত্রীকে। ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে যে বয়ানে লাগাতার অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।
আরও পড়ুনঃ ক্ষমতায় এসেই সিন্ডিকেট উপড়ে ফেলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
ঘড়ির কাঁটায় সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ, ছেলে সমুদ্র বসু ও আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে ED দফতরে হাজিরা দেন বিধাননগরের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু। ভোটের আগে পুর নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় ৪ বার নোটিস পেয়ে তিনি আসেননি। ভোট শেষের পর ১ মে হাইকোর্টের নির্দেশে ED দফতরে হাজিরা দেন বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু। প্রায় ৯ ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেদিন বেরিয়েও কোনও কিছুই বলেননি প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী।
পুরসভায় চাকরি দেওয়াটা মূলত পুরসভা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করেন। চেয়ারম্য়ান, ভাইস চেয়ারম্য়ান তাঁদের ওপর অনেকটা নির্ভর করে। যে পদ্ধতি মেনে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় চাকরি হওয়ার কথা, তা হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করছিল ইডি। সেখানেই নাম উঠে এসেছিল অয়ন শীলের। তাঁর অফিসেই কিছু নথিপত্র খতিয়ে দেখেই ইডির সন্দেহ হয়েছিল যে এটা শুধুমাত্র প্রাথমিক শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতির বিষয় নয়, এটি পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গেও যুক্ত।


