পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার অপরাধীচক্র, সিন্ডিকেটরাজ এবং অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পথে হাঁটছে। বৃহস্পতিবার বিধানসভার প্রথম বাজেট অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। তিনি স্পষ্ট জানান, আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
আরও পড়ুনঃ শুধু পছন্দের অফিসারে না, জেড প্লাস নিরাপত্তা অক্ষত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর
বিধানসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যেসব সমাজবিরোধী ও অপরাধীচক্র রাজনৈতিক প্রশ্রয় পেয়ে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, নতুন সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর এবং অপরাধের বিরুদ্ধে কোনওরকম আপস করা হবে না।
অবৈধ বিদেশিদের প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান শোনা যায় রাজ্যপালের বক্তব্যে। তিনি জানান, রাজ্যে অবস্থানকারী অবৈধ বিদেশিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বিএসএফের হাতে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাজ্যপাল আরও বলেন, বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘হুমকির সংস্কৃতি’ এবং দুর্নীতিগ্রস্ত সিন্ডিকেটরাজের অবসান ঘটাতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তোলাবাজি, বেআইনি বালি ও কয়লা পাচারের মতো কার্যকলাপের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নারী নিরাপত্তা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের সুরক্ষার বিষয়েও সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে দাবি করেন রাজ্যপাল। তাঁর কথায়, অত্যাচার ও অপরাধের ঘটনায় প্রশাসন কোনওরকম শৈথিল্য দেখাবে না।
আরও পড়ুনঃ বেনজির পরিস্থিতি, চরম অর্থ সঙ্কটের মুখে তৃণমূল
শুধু আইনশৃঙ্খলাই নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে নতুন সরকার। রাজ্যপাল জানান, পশ্চিমবঙ্গকে শিল্প-বান্ধব রাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং উন্নয়নমুখী প্রশাসনের মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বিধানসভা অধিবেশনে দেওয়া এই ভাষণকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যপালের বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা আগামী দিনের প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের স্পষ্ট ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে।


