Wednesday, 29 July, 2026
29 July
Homeজ্যোতিষ/আধ্যাত্মিকতাGuru Purnima: গুরু পূর্ণিমা; পুষ্প-প্রণামের আড়ালে লুকানো ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাস

Guru Purnima: গুরু পূর্ণিমা; পুষ্প-প্রণামের আড়ালে লুকানো ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাস

কিন্তু বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এই একটিমাত্র তিথির পেছনে লুকিয়ে রয়েছে হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন—তিন প্রধান ভারতীয় দর্শনের সহস্রাব্দের ইতিহাস

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে প্রতি বছর পালিত হয় গুরু পূর্ণিমা। সাধারণ মানুষের কাছে এটি মূলতঃ শিক্ষক ও গুরুজনদের ফুল, মিষ্টি এবং প্রণামের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানোর একটি অনুষ্ঠান। কিন্তু বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এই একটিমাত্র তিথির পেছনে লুকিয়ে রয়েছে হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন—তিন প্রধান ভারতীয় দর্শনের সহস্রাব্দের ইতিহাস, গুরু-শিষ্য পরম্পরার সূচনা এবং ভারতীয় সভ্যতার মৌলিক জ্ঞানচর্চার এক অমূল্য ঐতিহ্য।

১. ব্যাস পূর্ণিমা ও বেদ বিভাজন

হিন্দু ঐতিহ্যে গুরু পূর্ণিমার সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মহর্ষি বেদব্যাসের (কৃষ্ণের দ্বৈপায়ন) আবির্ভাব। এ দিনটিকে ‘ব্যাস পূর্ণিমা’ও বলা হয়।

  • সংকলক ‘ব্যাস’: ‘ব্যাস’ কোনো ব্যক্তির নাম নয়, এটি একটি উপাধি—যার অর্থ ‘সংকলনকারী’। সুবিশাল বৈদিক জ্ঞানকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে বোধগম্য ও মুখস্থ রাখার সুবিধার্থে তিনি ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ—এই চারভাগে বিভক্ত করেন।

  • অনবদ্য অবদান: এছাড়া মহাভারত, ১৮টি পুরাণ ও ব্রহ্মসূত্র রচনার কৃতিত্বও তাঁর। এই কারণে তিনি সমগ্র মানবজাতির ‘আদি শিক্ষক’ বা গুরু হিসেবে পূজিত হন।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষাই জীবনের আসল ভিত্তি, গুরু পূর্ণিমায় গুরুদের শ্রদ্ধা জানানোর বার্তা ও গুরুত্ব

২. শিবের ‘আদি গুরু’ রূপ ও যোগশাস্ত্রের সূচনা

যোগ ও শিব বৈদিক দর্শনে ভগবান শিবকে ‘আদি গুরু’ বা প্রথম গুরু হিসেবে মানা হয়। কথিত আছে, দীর্ঘ ধ্যানমগ্ন থাকার পর এই আষাঢ় পূর্ণিমাতেই শিব তাঁর অর্জিত জ্ঞান প্রথমবার সাতজন শিষ্য অর্থাৎ ‘সপ্তর্ষি’-র কাছে প্রকাশ করেন। এখান থেকেই জগতে গুরু-শিষ্য পরম্পরার আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। সংস্কৃত ‘গুরু’ শব্দের মূল অর্থই হলো ‘অন্ধকার (গু) দূর করে আলোয় (রু) নিয়ে যাওয়া’।

৩. বৌদ্ধ ধর্মে ‘ধর্মচক্র প্রবর্তন’ ও বর্ষাবাস

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে গুরু পূর্ণিমা অতি পবিত্র।

  • প্রথম উপদেশ: বোধিসত্ত্ব লাভের পর এই আষাঢ় পূর্ণিমা তিথিতেই গৌতম বুদ্ধ সারনাথের মৃগদাবে তাঁর পাঁচজন প্রাক্তন সঙ্গীর সামনে প্রথম ধর্মদেশনা দেন। এটি ইতিহাসখ্যাত ‘ধর্মচক্র প্রবর্তন’

  • সংঘ ও বর্ষাবাস: এই দিনেই বৌদ্ধ সংঘের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা ঘটে এবং শুরু হয় তিন মাসের ‘বস্স’ বা বর্ষাবাস। বর্ষাকালে ক্ষুদ্র জীবজন্তুর ক্ষতি এড়াতে ভিক্ষুরা ভ্রমণ স্থগিত রেখে এক স্থানে অবস্থান করে সাধনা ও শিক্ষাদানে মনোনিবেশ করেন।

৪. জৈন ঐতিহ্য ও প্রথম শিষ্য গ্রহণ

জৈন দর্শন অনুযায়ী, এই পবিত্র তিথিতেই ভগবান মহাবীর তাঁর প্রথম ও প্রধান শিষ্য ইন্দ্রভূতি গৌতমকে দীক্ষা ও শিক্ষা প্রদান করেছিলেন। এর মাধ্যমে জৈন ধর্মে সংগঠিত গুরু-শিষ্য শিক্ষাপদ্ধতির গোড়াপত্তন হয়।

আরও পড়ুনঃ কুনাল ঘোষের চেষ্টায় ফালাকাটার ছোট্ট পূজার চিকিৎসার সাফল্য; আট বছর পর স্মৃতিচারণ

গুরুদক্ষিণার প্রকৃত অর্থ ও চাতুর্মাস

প্রাচীন ভারতে গুরুদক্ষিণা মানে কেবল অর্থ বা বস্তু প্রদান ছিল না। বছরের পর বছর আশ্রমে থেকে গুরুসেবা, সামাজিক দায়িত্ব পালন এবং গুরুর দেওয়া শিক্ষাকে নিজের জীবনে সৎভাবে প্রয়োগ করাই ছিল আসল গুরুদক্ষিণা।

এই পূর্ণিমার পর থেকে শুরু হয় ‘চাতুর্মাস’। প্রাচীনকালে বর্ষায় যাতায়াত কঠিন হওয়ায় ঋষি, সন্ন্যাসী ও আচার্যেরা চার মাস এক স্থানে অবস্থান করতেন। এই সময়ে আশ্রমগুলি জমজমাট শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হতো; চলতো দর্শন, ব্যাকরণ, যোগ ও শাস্ত্রের দীর্ঘ চর্চা। ভারতের জ্ঞানচর্চাকে যুগে যুগে বাঁচিয়ে রাখতে এই ব্যবস্থার ভূমিকা অপরিসীম।

কেন পূর্ণিমা তিথি?

ভারতীয় দর্শনে পূর্ণ চাঁদ হলো জ্ঞান, মানসিক স্বচ্ছতা ও পরিপূর্ণতার প্রতীক। সূর্য যেমন চাঁদকে আলোকিত করে এবং চাঁদ সেই আলো পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয়, ঠিক তেমনই একজন গুরু ঈশ্বরের আলো ও জ্ঞান নিজে ধারণ করে শিষ্যের অন্ধকারময় জীবনে ছড়িয়ে দেন। তাই গুরু পূর্ণিমা কেবল কোনো ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভারতীয় জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার এক ঐতিহাসিক স্মারক।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন