বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, ফরাক্কা:
লগ্নির নির্ধারিত সময়ে জমে উঠেছিল বিয়ের আসর। হঠাৎই সেই আসরে হাজির হয়ে বিয়ে বন্ধ করে দিল পুলিশ। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা থানার বেনিয়াগ্রাম এলাকায় এক নাবালিকার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে বিয়ের মণ্ডপ থেকেই আটক করা হলো বর ও সংশ্লিষ্ট নাবালিকাকে।
গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ফরাক্কা থানার পুলিশ এই অভিযান চালায়। পাত্রীর বয়স সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে বিয়ে পণ্ড করে দেয় প্রশাসন। নাবালিকা বিবাহ প্রতিরোধে পুলিশের এই তড়িৎ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।
ফরাক্কার ঘটনা ও সম্প্রতি পুলিশি তৎপরতার চিত্র
মুর্শিদাবাদ জেলায় পরপর ঘটে যাওয়া শিশুবিবাহ প্রতিরোধের মূল বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
| তারিখ ও স্থান | প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও উদ্ধার পরিস্থিতি |
| বেনিয়াগ্রাম (ফরাক্কা) | বিয়ের আসর থেকে বর ও নাবালিকাকে আটক করা হয়। ঘটনায় যুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। |
| ৯ সেপ্টেম্বর (গাজিনগর, সামশেরগঞ্জ) | ১৬ বছর বয়সি কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয়েছে কিশোরীর বাবা এবং সংশ্লিষ্ট কাজী সহ জড়িতদের। |
| ১০ সেপ্টেম্বর (সামশেরগঞ্জ) | দ্রুত পদক্ষেপ করে আরও একটি বাল্যবিবাহ রুখে দেয় পুলিশ ও সিডিপিও (CDPO)। |
আরও পড়ুনঃ ২০৩০-এর অপেক্ষা নয়, ৪ বছর আগেই নীলকুরিঞ্জির নীলে সাজছে কেরলের পাহাড়
আইনি ব্যবস্থা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা
ফরাক্কার ঘটনার পর প্রশাসন জানিয়েছে, শিশুবিবাহ প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া নাবালিকাদের নিয়ম মেনে কাউন্সেলিংয়ের জন্য চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) সামনে হাজির করা হয়েছে।
এদিকে, সামশেরগঞ্জে পর পর দুটি শিশুবিবাহ রুখে দেওয়ায় সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ এবং সিডিপিও-র ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, “কন্যাসন্তানদের সুরক্ষা, তাদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাজ্যের মাটি থেকে শিশুবিবাহ সম্পূর্ণ নির্মূল করার বিষয়ে সরকার কোনো আপস করবে না।”
প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে বাল্যবিবাহ রোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর কাজ জোরদার করা হচ্ছে।


