বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলের দৃশ্যদূষণ দূর করার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে বিদ্যুৎ বণ্টনকারী সংস্থাগুলি। ঝুলন্ত ওভারহেড তারের পরিবর্তে মাটির নিচ দিয়ে (Underground Cabling) বিদ্যুতের কেবল নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দুর্গাপূজার পরেই প্রাথমিক পর্যায়ে শহর এলাকায় সিইএসসি (CESC) এবং পরবর্তীতে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন নিগম (WBSEDCL) গ্রাম ও মফস্বলে এই সুবিশাল প্রকল্পের কাজ শুরু করতে চলেছে।
প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিবিদদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আমফান বা কালবৈশাখীর মতো প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে খুঁটি উপড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভোগান্তি আর থাকবে না।
আরও পড়ুনঃ ফের স্তব্ধ সিকিমগামী যোগাযোগ ব্যবস্থা; ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস, যানজট সিকিমে
প্রকল্পের প্রধান সুবিধা ও প্রভাব
বিদ্যুৎ সংযোগ মাটির নিচে নিয়ে যাওয়ার ফলে গ্রাহক ও পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির যে সমস্ত প্রত্যক্ষ লাভ হবে:
| বিষয় ও ক্ষেত্র | বর্তমান সমস্যা | মাটির নিচে কেবলের সুফল |
| নিরাপত্তা ও দৃশ্যদূষণ | খোলা তার ও মাথার ওপর জটলা, তার ছেঁড়ার ঝুঁকি। | দৃশ্যদূষণ দূর হবে, তার ছিঁড়ে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা শূন্যে নামবে। |
| বিদ্যুৎ চুরি | বেআইনি হুকিং ও বিদ্যুৎ অপচয়। | মাটির নিচে কেবল থাকায় হুকিং সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব হবে। |
| ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব | খুঁটি ও তার ভেঙে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট। | ঝড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলবে। |
| গ্রাহক সুবিধা | বারংবার রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও লাইনে সমস্যা। | সংস্থার লোকসান কমলে পরোক্ষভাবে সুফল পাবেন সাধারণ গ্রাহকরা। |
আরও পড়ুনঃ সামাজিক মাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরিতে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা; নেপালে নদীর জলে কুকুরকে ঠেলে ফেলার ভিডিও ঘিরে নিন্দার ঝড়
সাময়িক চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবায়নের রূপরেখা
প্রকল্পটিকে সফল করতে সিইএসসি ও রাজ্য বিদ্যুৎ নিগমের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাটির নিচে কেবল পাতার কাজের সময়ে বিভিন্ন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে কিছু এলাকায় সাময়িক যানজট বা চলাচলের অসুবিধা হতে পারে।
তবে পূজো-পরবর্তী এই মহাযজ্ঞ সম্পন্ন হলে শুধু শহর নয়, বরং গ্রাম বাংলার প্রত্যন্ত এলাকার বিদ্যুৎ পরিষেবার গুণগত মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


