বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা:
আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ তথা আর্থিক দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত সন্দীপ ঘোষের জামিন মঞ্জুর করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা এবং সাক্ষ্যগ্রহণে চরম মন্থর গতির কারণ দেখিয়ে শুক্রবার দেশের শীর্ষ আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অভয়ার বাবা শেখর দেবনাথ। সরাসরি তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তা ও গাফিলতির অভিযোগ তুলে তিনি তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘প্রহসন, ডবল ইঞ্জিনের অভিসন্ধি নগ্ন হয়ে পড়ছে!’ ফুঁসে উঠল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ পিতা বলেন, “যে সংস্থা কাজ করলে টাকা পায়, না করলে ঘুষ পায়, তাদের নিয়ে কিছু বলব না। মনীষ উপাধ্যায়কে ফোন করেছিলাম, তিনি জানিয়েছেন তাঁদের কিছু করার নেই, সময় লাগবে।” মামলার এই বেহাল দশার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে তিনি আরও জানান, ১৪৭ কোটি মানুষ যে সংস্থার ওপর ভরসা করে, তাদের এমন গাফিলতি থাকলে মানুষ কীভাবে ভরসা রাখবে? রাজ্য সরকার এই মামলার ক্ষেত্রে দায়ী নয়, বরং সিবিআইয়ের স্বাধীন তদন্তের এই ঢিলেঢালা ভাবই আজ জামিনের পথ প্রশস্ত করেছে বলে তোপ দাগেন তিনি। একই সঙ্গে ধর্ষণের মামলাতেও সন্দীপের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর চার্জশিটের দাবি জানিয়েছেন মৃতার বাবা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে এক তরুণী পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি ডাক্তারের নৃশংস মৃতদেহ উদ্ধারের পরই হাসপাতাল জুড়ে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। তৎকালীন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে সরকারি তহবিল তছরুপ, ভেন্ডারদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়া এবং স্বজনপোষণের একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সেই সময় দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ হাই কোর্টের নির্দেশ খারিজ! সন্দীপকে জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট; ক্ষুব্ধ নির্যাতিতার পরিবার
এর আগে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিকবার সন্দীপ ঘোষের জামিনের আবেদন খারিজ করা হয়েছিল। হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, সরকারি অর্থ আত্মসাতের এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং অভিযুক্ত অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় বাইরে এলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সন্দীপের আইনজীবীরা।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, প্রায় দু’বছর ধরে প্রাক্তন অধ্যক্ষ জেলবন্দি রয়েছেন, অথচ মামলার চার্জশিটে থাকা ১৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ার এই মন্থর গতি ও মামলার দীর্ঘসূত্রিতা বিবেচনা করেই শীর্ষ আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করে। এই রায়ের পর আগামী দিনে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় ফের বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অভয়ার পরিবার ও আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকরা।


