Sunday, 25 October, 2026
25 October
Homeজ্যোতিষ/আধ্যাত্মিকতাLaxmi Puja: যে প্রতিশ্রুতির বাঁধনে দেবী লক্ষ্মী আজও বন্দি! জগৎ শেঠ ও...

Laxmi Puja: যে প্রতিশ্রুতির বাঁধনে দেবী লক্ষ্মী আজও বন্দি! জগৎ শেঠ ও পদ্মাবতীর সেই অমলিন কোজাগরী কথা

স্বয়ং ঈশ্বর বা দেবীকেও ভালোবাসার শৃঙ্খলে বেঁধে রাখতে পারে—জগৎ শেঠের মা পদ্মাবতীর এই করুণ অথচ মহিমান্বিত কোজাগরী গল্পটি আজও বঙ্গজীবনের এক অমর দলিল হয়ে বেঁচে রয়েছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক নিবেদন:

কোজাগরী পূর্ণিমার মায়াবী জ্যোৎস্নায় যখন বাংলার প্রতিটি কোণ দেবী লক্ষ্মীর চরণধ্বনি শোনার অপেক্ষায় মুখর হয়, তখন ইতিহাসের ধুলোমাখা পাতায় বেঁচে থাকা এক অলৌকিক লোককথা আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়। চঞ্চলা দেবী লক্ষ্মী, যিনি এক মুহূর্তে এসে ধন-ধান্যে ভরিয়ে দেন, আবার পর মুহূর্তেই অন্তর্হিত হন—তিনিও কি কোনোদিন কারো প্রেমে বা প্রতিশ্রুতির শিকলে আটকা পড়েছিলেন? মুর্শিদাবাদের প্রখ্যাত মহাজন জগৎ শেঠের মা পদ্মাবতীর বুদ্ধিমত্তা ও আত্মত্যাগের গল্প সেই প্রশ্নেরই এক চিরন্তন ও বিষাদময় উত্তর দেয়।

আরও পড়ুনঃ  জানেন না ৯৯% ভক্তই! কীভাবে চালু হল ‘কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো’?

আঁধার রাতের একমাত্র আলো ও দেবীর আগমন

জনশ্রুতি বলে, মুর্শিদাবাদের ক্ষমতাশালী নবাব যখন জগৎ শেঠের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে কিছু চাওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন, তখন শেঠজি তাঁর দূরদর্শী মা পদ্মাবতীর পরামর্শ নেন। পদ্মাবতী ধন-দৌলত বা কোনো রাজকীয় সুবিধা না চেয়ে এক অদ্ভুত প্রার্থনা করেছিলেন নবাবের কাছে—আশ্বিনের কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে যেন সমস্ত রাজত্ব জুড়ে প্রদীপ জ্বালানো নিষিদ্ধ করা হয়। রাজ্যে যেন এক মায়াবী আঁধার নেমে আসে।

নবাবের আদেশে সেই রাতে পুরো মুর্শিদাবাদ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল। কেবল শেঠদের প্রাসাদে জ্বলছিল শত শত সুবাসিত ঘিয়ের প্রদীপ। পদ্মাবতী খোলা দরজার সামনে একরাশ আশা নিয়ে জেগে বসেছিলেন। নিচ্ছিদ্র আঁধারের মাঝে সেই একটুকরো আলোর টানেই নাকি স্বয়ং দেবী লক্ষ্মী এক সাধারণ পথচারীর ছদ্মবেশে জগৎ শেঠের দরজায় এসে উপস্থিত হন।

পদ্মাবতীর কূটবুদ্ধি ও দেবীর অনন্ত অপেক্ষা

বুদ্ধিমতী ও ভক্তিমতী পদ্মাবতী প্রথম দর্শনেই দেবীর ছদ্মরূপ চিনে ফেলেন। তিনি জানতেন, দেবী চঞ্চলা; এক গৃহে তাঁর মন বেশিক্ষণ টিকে থাকে না। তাই দেবীকে গৃহে পরম আদরে ঠাঁই দিয়ে পদ্মাবতী অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে এক অঙ্গীকার আদায় করে নেন। তিনি দেবীকে অনুরোধ করেন—যতক্ষণ না তিনি কাছের নদী থেকে স্নান সেরে ফিরে আসছেন, দেবী যেন কোনোভাবেই সেই গৃহ ত্যাগ না করেন। সরল মনে দেবীও সেই শর্তে সম্মত হন।

কিন্তু পদ্মাবতী জানতেন, তিনি বেঁচে থাকলে বা ফিরে এলে দেবী একদিন না একদিন প্রস্থান করবেনই। তাই দেবীকে চিরতরে শেঠ পরিবারে ও মর্ত্যের সেই কোণে আটকে রাখতে পদ্মাবতী গঙ্গায় স্নান করতে নেমে আর ফিরে এলেন না। দেবীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ফাঁদে বন্দি রাখতে তিনি নদীর অতল জলে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিলেন।

দেবী লক্ষ্মী কথা দিয়েছিলেন; কিন্তু যে মানুষটি তাঁকে স্নান থেকে ফিরে এসে মুক্ত করবে, সে আর কোনোদিন ফেরেনি। ফলে এক দেবীকেও আটকা পড়তে হলো এক মরণশীল মানুষের প্রতিশ্রুতির শক্ত বাঁধনে।

আরও পড়ুনঃ  ফল-সবজি থেকে নারকেল, কেনাকাটায় হাত পুড়ছে মধ্যবিত্তের; কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় আগুনের ছেঁকা বাজারে

চঞ্চলা দেবীর চঞ্চলতা ও এক চিরন্তন সত্য

কথায় বলে, লক্ষ্মী চঞ্চলা। তিনি এক গৃহ থেকে অন্য গৃহে নিরন্তর ঘুরে বেড়ান, কোথাও স্থায়ী হন না। কিন্তু এই লোককথা যেন সেই রূপকের এক অন্য অর্থ উন্মোচন করে। হয়তো আজও দেবী মর্ত্যের অলিতে-গলিতে ঘুরে বেড়ান পদ্মাবতীর সেই প্রতীক্ষার অবসানের আশায়—যে প্রতীক্ষার কোনো শেষ নেই, যে প্রতিশ্রুতির কোনো মুক্তি নেই।

ধন-সম্পদ দিয়ে মানুষ কেবল সাময়িক সমৃদ্ধি লাভ করতে পারে, কিন্তু ভক্তি, বুদ্ধিমত্তা আর চরম আত্মত্যাগের যে নিঃশব্দ প্রতীক্ষা, তা যে স্বয়ং ঈশ্বর বা দেবীকেও ভালোবাসার শৃঙ্খলে বেঁধে রাখতে পারে—জগৎ শেঠের মা পদ্মাবতীর এই করুণ অথচ মহিমান্বিত কোজাগরী গল্পটি আজও বঙ্গজীবনের এক অমর দলিল হয়ে বেঁচে রয়েছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন