পদ্মাপাড়ে ছুটি নিয়ে মহাবিতর্ক। প্রথামাফিক ২০২৫ সালের শেষে নতুন বছরের ছুটির তালিকা প্রকাশ করে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সেই সরকারি ছুটির তালিকায় কোথাও ভাষা শহিদ দিবসের জন্য ছুটি নির্ধারিত নেই। যা ঘিরে তীব্র বিতর্ক।
আরও পরুনঃ নতুন বিতর্ক বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে! BMJP-এর সাথে ভারতের বিজেপির সঙ্গে ‘যোগাযোগ’ কি আছে?
শুধুই ভাষা দিবস নয়, হিন্দুদের একাধিক উৎসবের দিনেও থাকা সরকারি ছুটি বাতিল করে দিয়েছে ইউনূস সরকার। এই বছর বাংলাদেশের হিন্দুরা পাবেন না সরস্বতীর পুজো, বুদ্ধ পূর্ণিমা, জন্মাষ্টমী, মহালয়ার কোনও ছুটি। মে দিবসেও নেই ছুটি। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এই সকল দিনগুলিতেও দেশের সকল বিদ্যালয় খোলা থাকবে। যার জেরে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলেছেন একাংশ। অবশ্য, রমজান ও ইদুল ফিতরে ছুটি দিলেও আগের তুলনায় দিনের সংখ্যা কমেছে। তবে এই সব ছুটির মধ্যেই সবচেয়ে বিতর্কের জায়গা ভাষা দিবসের ছুটি।
একাংশের অভিযোগ, এবার ভাষা আন্দোলনকে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে দিতে চাইছে ইউনূস সরকার। গত দেড় বছরেরও বেশি সময় এমন একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার, যা দিনশেষে প্রভাব ফেলেছে বাংলাদেশের ইতিহাসে। মুছে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নানা প্রসঙ্গ। বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গিয়েছেন বঙ্গবন্ধুও। এবার ‘টার্গেট’ ভাষা দিবস। অবশ্য়, ইউনূস সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এ বছর ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার পড়েছে। শুক্রবার এবং শনিবার বাংলাদেশে এমনিতেই সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। তাই আলাদা করে ভাষা দিবসের কথা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
আরও পরুনঃ ক্যালেন্ডারে মস্ত ভুল! ঢেউ উঠেছে সাগরপাড়ে
কিন্তু ২০২৫ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি পড়েছিল শুক্রবার। যা বাংলাদেশে সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির দিন। কিন্তু তারপরেও সরকার ছুটির বিজ্ঞপ্তিতে ওই দিনটিকে ভাষা দিবসের ছুটি বলেই উল্লেখ করা হয়েছিল। যা ‘ব্রাত্য’ হয়ে গেল চলতি বছর। তারপরই তুঙ্গে বিতর্ক। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকারকে। তিনি বলেন, ‘এরা নির্বোধ এবং অশিক্ষিত। ২১ ফেব্রুয়ারির জন্য বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল। বিশ্বের একাধিক ভাষার সঙ্গে এই ভাষার ইতিহাস জড়িয়ে গেল। এনারা উন্মাদ হয়ে গিয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অধুনা স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রেরা বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলন দমন করতে গুলি চালায় পাকিস্তানের পুলিশ। তাতেই মৃত্যু হয় বরকত, সালাম, রফিক ও জব্বরদের। অনেকের মত, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অণুঘটক ছিল এই ভাষা আন্দোলন।









