দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরতেই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল রাজ্যে। বৃহস্পতিবার কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর, চোর’ স্লোগান দিতে দেখা যায় একদল বিক্ষোভকারীকে। বিমানবন্দরের বাইরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যদিও নিরাপত্তার বলয়ে দ্রুত বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেন অভিষেক।
আরও পড়ুনঃ দিল্লি ছাড়লেন ‘উদ্ধত’ অভিষেক! ১৪ দিনের লাইফলাইন, কিন্তু হাজিরায় নো-কম্প্রোমাইজ
এদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। সেই কারণেই দিল্লি থেকে কলকাতায় পৌঁছনোর পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয় বিমানবন্দর থেকে কি তিনি সরাসরি ভবানী ভবনের উদ্দেশেই রওনা দেবেন? সূত্রের খবর, আদালতের নির্দেশকে গুরুত্ব দিয়েই নিজের কর্মসূচি সাজিয়েছেন অভিষেক। ফলে বিমানবন্দর থেকে তাঁর গন্তব্য কী হবে, তা নিয়ে সকাল থেকেই জল্পনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। বিমানবন্দরে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখেন। তবে অভিষেক বা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের তরফে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
কলকাতা বিমানবন্দরে তাঁর আগমনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল কড়া। কারণ আদালতের নির্দেশ এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এদিনের ঘটনাপ্রবাহকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। বিমানবন্দরের বাইরে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান ঘিরে কিছুটা শোরগোল তৈরি হলেও কোনও বড় অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি।
আরও পড়ুনঃ ডেডলাইন সন্ধ্যা ৬টা; কলকাতা হাইকোর্টে বড় ধাক্কা অভিষেকের
সূত্রের খবর, এদিনই সই জালিয়াতি মামলায় ভবানীভনে তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হবে। তাঁকে কার্যত নিজের হাতেই সিআইডি-র প্রশ্নের উত্তর লিখে দিতে হবে। অর্থাৎ, তদন্তকারীরা প্রশ্ন লিখে দিতে হবে। তারপর অভিষেককে নিজেই সেই প্রশ্নের উত্তর লিখে দিতে হবে। শেষে সই করতে হবে। পরবর্তীতে যাতে তিনি নিজে চাপ দেওয়া, ভয় দেখিয়ে লিখে নেওয়ার মতো কোনও অভিযোগ করতে না পারেন তার জন্যই এই উদ্যোগ বলে জানা যাচ্ছে। অর্থাৎ সিআইডি যে এ ক্ষেত্রে একেবারে নতুন কৌশল নিচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
অভিষেকের হাজিরাকে কেন্দ্র করে দিনভর ভবানীভবনেও চূড়ান্ত ব্যস্ততার ছবি দেখা গিয়েছে ভবানীভবনেও। মেইন গেটেও কড়া নিরাপত্তা। ভিতর থেকে গেট বন্ধ, নজরদারির জন্য মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। মোতায়েন করা হয়েছে RAF. দুই দিকেই চলছে কড়া পাহাড়া। রয়েছে কলকাতা পুলিশের বিশাল টিম। বাকি গেটগুলিতেও কড়া পুলিশি পাহাড়া রয়েছে। সব গেটেরই নিরাপত্তা রীতিমতো বাড়ানো হয়েছে। কোথাও কোনওরকম জমায়েত করতে দেওয়া হচ্ছে না।


