কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
আন্তর্জাতিক বাঘ দিবসে উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণী ও পর্যটনপ্রেমীদের জন্য এল জোড়া আনন্দের খবর। ডুয়ার্সের কোলে অবস্থিত শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্কের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারদের দলে যুক্ত হতে চলেছে নতুন এক সদস্য। কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে একটি স্ত্রী রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে খুব শিগগিরই শিলিগুড়ির এই সাফারি পার্কে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। সব পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আসন্ন দুর্গাপুজোর ছুটিতেই পর্যটকেরা এই নতুন রাজকীয় অতিথিকে দেখার সুযোগ পাবেন।
আরও পড়ুনঃ ‘জয় মোহনবাগান’; সবুজ-মেরুনকে শুভেচ্ছা মুখ্যমন্ত্রীর
প্রাণী বিনিময় ও জিনগত বৈচিত্র্য রক্ষার উদ্যোগ: রাজ্য বন দফতর ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের এই যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বাঘ সংরক্ষণ এবং জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic Diversity) অক্ষুণ্ণ রাখা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক বদ্ধ পরিবেশে দীর্ঘদিন একই বংশানুক্রমের বাঘদের মধ্যে প্রজনন ঘটলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ও নানাবিধ জিনগত সমস্যা দেখা দেয়। সেই ঝুঁকি এড়াতেই এই উদ্যোগ। ইতিমধ্যেই সেন্ট্রাল জু অথরিটি (CZA) এই বাঘ স্থানান্তরের অনুমোদন দিয়েছে।
পূর্ববর্তী প্রাণী বিনিময় ও সাফারির বর্তমান চিত্র:
-
পূর্বের বিনিময়: এর আগে ২০১৯ সালে ‘স্নেহাশিস’ নামে একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে আলিপুর চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছিল।
-
দার্জিলিং চিড়িয়াখানার সাথে বিনিময়: সম্প্রতি গত জুনে বেঙ্গল সাফারি থেকে একটি স্ত্রী বাঘকে দার্জিলিংয়ের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিকাল পার্কে পাঠানো হয়। তার পরিবর্তে সাফারিতে আনা হয়েছে একটি সাইবেরিয়ান প্রজাতি/মিশ্রণের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
-
অন্যান্য চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর: ২০২৪ সালে প্রাণী বিনিময় কর্মসূচির অধীনে ত্রিপুরা সিপাহিজালা চিড়িয়াখানায় এক জোড়া রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পাঠিয়ে পরিবর্তে এক জোড়া স্পেকট্যাকল লেঙুর ও এক জোড়া সিংহ আনা হয়েছিল। এছাড়া সম্প্রতি ঝাড়গ্রাম চিড়িয়াখানায় এখান থেকে ৫টি বাঘ পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
বর্তমানে বেঙ্গল সাফারি পার্কে বাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪-তে, যা উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক বিশাল সাফল্য।
আরও পড়ুনঃ ‘ভয়াবহ’ পর্যায়ে এইডসের সংক্রমণ! সতর্ক হোক আধুনিক জীবন, সতর্ক হোন আপনি
বনমন্ত্রীর বক্তব্য: রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও জানিয়েছেন, “আলিপুর থেকে আসা নতুন বাঘটি পার্কে পৌঁছনোর পর নির্দিষ্ট কিছুদিন তাকে কোয়ারেন্টাইনে রেখে নতুন জল-হাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এরপরই তাকে পর্যটকদের সামনে আনা হবে।” দুর্গাপুজোর মুখে এই নতুন অতিথির আগমন উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও ব্যাঘ্রপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।


