Wednesday, 10 June, 2026
10 June
HomeকলকাতাTMC: নিখুঁত টাইমিং, চরম পলিটিক্যাল ট্র্যাপ! সংসদেও ভাঙল তৃণমূল

TMC: নিখুঁত টাইমিং, চরম পলিটিক্যাল ট্র্যাপ! সংসদেও ভাঙল তৃণমূল

যখন মাঠের কর্মীদের ছেড়ে দিল্লির দরবারে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত, তখনই নিঃশব্দে কার্যকর হলো এই নিখুঁত টাইমিংয়ের ফাঁদ।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

সংসদেও ভাঙল তৃণমূল

কুড়ি জন তৃণমূল সাংসদ এখন এনডিএ শিবিরে। এ কেবল রাজনৈতিক দলবদল নয়। এ হলো রাষ্ট্রশক্তির অলিন্দে নিখুঁত টাইমিং। এক চরম পলিটিক্যাল ট্র্যাপ। রাজনীতির দাবার বোর্ডে এমন মোক্ষম চাল দিল্লির বুকে শেষ কবে পড়েছে? নেত্রী আর দলের সেনাপতি যখন খোদ রাজধানীতে হাজির, ঠিক তখনই তাঁদের চোখের সামনে দিয়ে আস্ত সংসদীয় দলটাই বেপাত্তা! ইন্ডি জোটের হাইভোল্টেজ বৈঠকে যখন মমতা-অভিষেক ব্যস্ত, ঠিক তখনই সংসদের অন্দরে দলটাই হাতছাড়া হওয়ার পথে।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, বড় বড় রথী-মহারথীদের অহংকার ভাঙতে শত্রুপক্ষ সবসময় বেছে নেয় এমন এক মোক্ষম মুহূর্ত, যখন তাঁদের প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে সবথেকে দুর্বল। এদিন দিল্লির বুকেও খেলাটা হলো ঠিক সেই রাজকীয় ছকে। যখন বঙ্গে ক্ষমতা হারানো মমতা আর তাঁর অন্ধ ভরসা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দু’জনে একযোগে দিল্লির দরবারে হাজির হয়েছেন। ইন্ডি জোটের বৈঠকে বোঝাচ্ছেন, নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা। ঠিক তখনই সংসদের অন্দরে ঘটে গেল এক লাইভ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। মমতার নাকের ডগা দিয়ে লোকসভার ২০ জন সাংসদ একযোগে চলে গেলেন এনডিএ লবিতে!

আরও পড়ুনঃ অন্য দলের জন্য বিজেপির দরজা এবার খুলে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল

অঙ্কটা স্রেফ হাওয়া বদলের নয়, অঙ্কটা আইনি সুরক্ষার। কীরকম?

লোকসভায় ই মুহূর্তে তৃণমূলের মোট আসন ২৮টি ( ২৯ ছিল, প্রয়াত বসিরহাটের সাংসদ)। দলত্যাগ বিরোধী আইনের ফাঁস এড়াতে দরকার ছিল দুই-তৃতীয়াংশ। ২৮টির হিসেবে ১৯ জন সাংসদের সমর্থন। কিন্তু খেলাটা যখন হয়েছে, তখন নিখুঁতভাবেই হয়েছে। ২৮-এর মধ্যে ২০ সাংসদই লবি পাল্টে ফেললেন

সটান ২০ জন সাংসদ একসঙ্গে এনডিএ লবিতে নাম লেখানো মানে, দলত্যাগ বিরোধী আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লোকসভায় দিদির নাম-নিশানা অফিশিয়ালি মুছে দেওয়ার আইনি ব্লু-প্রিন্ট! মমতা বা অভিষেক আইনিভাবেও এখন হাত-পা বাঁধা। দিল্লির দরবারে যে ২৮টি আসন নিয়ে মমতা এতদিন নরেন্দ্র মোদী বা ইন্ডি জোটের কাছে বারগেনিং করতেন, সেই পলিটিক্যাল ক্যাপিটাল এক ধাক্কায় শূন্য। লোকসভায় দিদির তৃণমূলের রাশ এখন পুরোপুরি হাওয়া।

এই ২০ জনের দলবদলে দিল্লির ক্ষমতার ভারসাম্য ঠিক কোথায় গিয়ে পৌছল? এই এন্ট্রি মানে মোদী সরকারের শক্তি একলাফে ২৯২ থেকে বেড়ে গিয়ে দাঁড়াল ৩১২-তে। লোকসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা ২৪০। এর আগে এনডিএ-র শক্তি ছিল ২৯২ আসন। এনডিএ-র সম্মিলিত শক্তি একলাফে ৩১২-তে

৩০০-র এই ম্যাজিক গণ্ডি পার হওয়া মানে, চন্দ্রবাবু নাইডু বা নীতিশ কুমারের মতো আঞ্চলিক শরিকদের ওপর একক নির্ভরতা এক ধাক্কায় ধুয়ে মুছে সাফ। দিল্লির সিংহাসন এখন নিষ্কণ্টক, মোদী-শাহের নেতৃত্ব আবার আগের মতোই একচ্ছত্র।

আরও পড়ুনঃ ২০ জন নয়! কেন স্পিকারের চিঠিতে সবার সই নেই? ভূপেন্দ্রর বাড়ির বৈঠকে আসল অঙ্ক কী ছিল

আর মুদ্রার উল্টো পিঠ? এই ২০ জন মাইনাস হওয়া মানে লোকসভায় বিরোধী শিবির তথা, ইন্ডি জোটের সম্মিলিত শক্তি ২০৯ থেকে এক ঝটকায় কমে দাঁড়িয়ে গেল ১৮৯-তে

একবার ভাবুন সেই চরম নাটকীয় মুহূর্তটার কথা। মমতা আর অভিষেক যখন দিল্লিতে সশরীরে উপস্থিত, ঠিক তখনই তাঁদের চোখের সামনে সাজানো বাগান ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল বিজেপি। দুর্নীতি, কাটমানি আর আইপ্যাকের কর্পোরেট অহংকারে অন্ধ হয়ে থাকা নেতৃত্ব, যখন মাঠের কর্মীদের ছেড়ে দিল্লির দরবারে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত, তখনই নিঃশব্দে কার্যকর হলো এই নিখুঁত টাইমিংয়ের ফাঁদ। এই ঐতিহাসিক পরাজয়ের মাশুল গুনেই কি আজ দিল্লির রাজনীতিতেও সম্পূর্ণ দেউলিয়া আর নিঃসঙ্গ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? এবার কি সংখ্যার কাটাকুটিতে দলটাও হাতছাড়া হওয়া সময়ের অপেক্ষা?

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন