কলকাতার হকারদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর দিল কলকাতা হাইকোর্ট । আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত হকার উচ্ছেদে অন্তর্বর্তীকালীন (Calcutta High Court) স্থগিতাদেশ জারি করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার বিচারপতি হীরন্ময় ভট্টাচার্য এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন। আদালতের এই নির্দেশের ফলে আগামী সোমবার পর্যন্ত কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় কোনও হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো যাবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১৭ জুন।
আরও পড়ুনঃ মুজাফ্ফারাবাদে ২১ পাক সেনা নিয়ে ভেঙে পড়ল হেলিকপ্টার
সম্প্রতি যাদবপুর স্টেশন চত্বরে হকার উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রেলের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ এবং দীর্ঘদিন ধরে বসে থাকা হকারদের সরাতে প্রশাসন অভিযান শুরু করে। সেই অভিযানকে ঘিরে স্থানীয় হকারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
রবিবার গভীর রাতে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সময় হকার ও প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বহু হকার অভিযোগ করেন, তাঁদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম এই ব্যবসা। কোনও বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। এর ফলে বহু পরিবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ সরকারি-ইলেকট্রিক বাসের সংখ্যা বৃদ্ধিই অগ্রাধিকার; জানালেন পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত হকাররা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। হকারদের পক্ষে আইনজীবী জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন এবং দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। বিচারপতি হীরন্ময় ভট্টাচার্য বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে মামলাটি গ্রহণ করেন এবং হকারদের মামলা দায়েরের অনুমতি দেন।
শুনানিতে হকারদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ওই এলাকায় ব্যবসা করছেন এবং তাঁদের জীবিকা সম্পূর্ণরূপে এই ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। (Calcutta High Court) পুনর্বাসনের কোনও স্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে হাজার হাজার মানুষের জীবনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারি ও রেলের জমি দখলমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং সেই কারণেই অভিযান চালানো হচ্ছে।


